জেফ বেজোস কত টাকার মালিক ২০২২

আপনি হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিটির নাম জানেন। কিন্তু এটা কি জানেন যে তিনি একাই বিশ্বের নামিদামি ১৫ টি কোম্পানির মালিক। আমাদের আজকের পোস্টে উপস্থাপন করা হবে বিশ্বের অন্যতম একজন প্রথম সারির ধনী ব্যক্তি যে বেজোস কে নিয়ে।

জেফ বেজোস এমন একজন মানুষ যিনি প্রতি সেকেন্ডে বর্তমানে প্রায় ২৮৮৫ ডলার এরও বেশি ইনকাম করেন। জেফ বেজোস প্রতি এক মিনিটে যে পরিমাণ অর্থ ইনকাম করেন তা একজন এভারেজ আমেরিকান এর সারা বছরের ইনকাম এর সমান।

একজন সাধারন আমেরিকান গড়ে সারা জীবন এ মাত্র ১৪ লক্ষ ডলার ইনকাম করে থাকেন। কিন্তু জেফ বেজোস এমন একটি নাম যিনি মাত্র ১৫ মিনিটে তার চেয়ে অনেক বেশি ইউএস ডলার ইনকাম করে থাকেন। সর্বশেষ মাইক্রোসফট এর কো ফাউন্ডার বিল গেটস কে পেছনে ফেলে যে বেজোস সেরা ধনী হয়েছিলেন।

জেফ বেজোস এর স্ত্রী মেকেঞ্জেস এর সাথে ডিভোর্স হওয়ার পর জেফ বেজোস এর ব্যক্তিগত সম্পদের প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যায়। কিন্তু বিশাল এই অর্থ-সম্পদ হাতছাড়া হবার পরেও যে বেজোস এখনো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের মধ্য একজন। যদিও এই ধনী ব্যক্তিদের মধ্য প্রথমে রয়েছেন ইলন মাস্ক।

১৯৬৪ সালের ১২ ই জানুয়ারি আমেরিকার নিউ মেক্সিকো স্টেট এ জন্মগ্রহণ করেন জেফ বেজোস। তার জন্মের সময় তার মায়ের বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। এবং তিনি একজন হাই স্কুল স্টুডেন্ট ছিলেন। মাত্র চার বছর বয়সেই জেফ বেজোস এর মায়ের ডিভোর্স হয়ে যায়।

এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর মিয়ামি পালমেটো হাই স্কুলে যে বেজোস পড়াশোনা করেন। তখন তিনি ম্যাকডোনাল্ড এর মর্নিং শিফটে পার্ট টাইম জব করতেন। এরপর তিনি ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডার স্টুডেন্ট সায়েন্স ট্রেনিং প্রোগ্রাম এ যোগ দেন। অত্যন্ত মেধা স্বাক্ষর রেখে তিনি গ্রেজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এবং সিলভার নাইট এওয়ার্ডে ভূষিত হন ১৯৮২ সালে।

জেফ বেজস বর্তমানে ১২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক। যা বাংলাদেশী টাকায় হয় ১২৮৭৫৬১,৫৬০০০০০ টাকা। এক কথায় বলতে গেলে প্রায় ১৩ লক্ষ কোটি বাংলাদেশি টাকা। যা কিনা বেশ কয়েকটি দেশের বাৎসরিক জিডিপি এর থেকে বেশি। 

জেফ বেজোস এর প্রতি সেকেন্ডে ইনকাম হয় ২৮৮৫ মার্কিন ডলার বা ২,৯২,৫০০ টাকা। এবং এক দিনে জেফ বেজোস ইনকাম করেন ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সে সময় জেফ বেজোস তার গ্রাজুয়েশন স্পীচ এ বলেছিলেন একদিন পৃথিবীর মানুষ মহাকাশে তাদের বসতি স্থাপন করবে। ১৯৮৬ সালে যে বেজোস ব্যাচেলর অব সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ইন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কম্পিউটার সাইন্স গ্রেজুয়েশন সম্পন্ন করেন। তিনি তার গ্রাজুয়েশন মাত্র ৪.২ নিয়ে সম্পন্ন করেন।

তবে তিনি ছিলেন অত্যাধিক মেধাবী একজন মানুষ। ১৯৯৪ সালের শুরুর দিকে জেফ বেজোস তার চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর পাঁচ জুলাই ১৯৯৪ সালে তিনি তার গ্যারেজে এমাজন প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুর দিকে অ্যামাজনের নাম ছিল “Cadabra”. পরে আমাজন নদীর নাম অনুসারে নামটি পরিবর্তন করে রাখেন এমাজন।

এর পেছনে আরও একটি কারণ ছিল যে ইংরেজি বর্ণমালার A দিয়ে শুরু হয় amazon এবং যার সাথে Z ও যুক্ত রয়েছে। A থেকে Z পর্যন্ত সব ধরনের প্রোডাক্ট সার্ভিস তিনি দিতে পারবেন এমন একটি স্বপ্ন নিয়ে তিনি amazon নামটি নির্ধারণ করেন। প্রাথমিক দিকেই amazon প্রতিষ্ঠা করার সময় তার বাবা-মা তাকে ৩ লাখ ডলারের বিশাল একটি আর্থিক ইনভেস্টমেন্ট দিয়েছিলেন।

সেই সময়ে বড় বড় ব্যবসায়িক বিশ্লেষকরা amazon কে অনেকগুলো সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন amazon দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে অথবা ব্যাংক দেনায় পথে বসে যেতে পারে। শুধুমাত্র একটি অনলাইন বই স্টোর দিয়ে চালু হওয়া এমাজনকে নিয়ে যে বেজোস এর সব সময় স্বপ্ন ছিল নতুন নতুন আরো প্রোডাক্ট যুক্ত করা।

জেফ বেজোস লক্ষ্য করলেন যতই নতুন প্রোডাক্ট আসছে ততই amazon এর চাহিদা বেড়ে চলেছে পুরো আমেরিকা জুড়ে। শুরুর মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে amazon এর ব্যবসায়িক সফলতা ছিল অত্যন্ত তুঙ্গে। এবং সে সময় যে বেজোস amazon কে নিয়ে যায় ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং বা আইপিইউতে।

অ্যামাজনের এমন ব্যবসায়িক সফলতা মেনে নিতে পারেনি বেশ কিছু বড় বড় ম্যাগাজিন যেমন ফরচুন এবং বর্নস এর মত ম্যাগাজিন গুলো। তাদের এমন সব সমালোচনার প্রতিবাদে জেফ বেজোস বলেছিলেন ইন্টারনেট ভিত্তিক বই এর ব্যবসা একদিন বর্ডারস এবং বার্নেস এর নোবেল এর মত খুচরা বিক্রেতাদেরকে ছাড়িয়ে যাবে খুব সহজেই। এবং পরবর্তীতে তাই হয়েছে।

১৯৯৮ সালে এসে যে বেজোস এমাজনের ব্যবসা বাড়িয়ে দেন মিউজিক ভিডিও এবং বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রডাক্ট এর ওপর। ২০০০ সালে এসে সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার তাল মিলিয়ে amazon ও ব্যবসায়িক মন্দায় পড়েছে। এবং সে সময় প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার এর ব্যাংক ঋণ এ পড়ে যায় amazon। এবং ব্যবসায়ীর ক্ষতি হয়ে যায় প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার এর ওপর।

২০০২ সালে এসে আমাজন ওয়েব সার্ভিস চালু করে। যা বিভিন্ন ওয়েবসাইট এর ট্রাফিক ডেটা নিয়ে কাজ করতো। কিন্তু তবুও অ্যামাজনের ব্যবসায়িক মন্দা কাটছিল না। ফলে ১৪ শতাংশের মত amazon কর্মী ছাঁটাই করে দেয়। ২০০৩ সালে এসে আমাজন আবারও সফলতার মুখ দেখে। সে বছর অ্যামাজন লাভ করেছিল প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার।

২০০৩ পরবর্তী সময় থেকে আজ পর্যন্ত amazon তাদের ব্যবসা বাড়িয়ে চলেছে এবং নতুন নতুন লাভের মুখ দেখেছে। এর মধ্যে অনেকগুলো নতুন কোম্পানির জন্ম দিয়েছে amazon। নামকরা এই সমস্ত কোম্পানির মালিক এক জেফ বেজোস।

আরো দেখুনঃ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *