যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য !

আন্তর্জাতিক রাজনীতি অথবা অর্থনৈতিক পরাশক্তি বলেন,যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র দুইটি দেশ সবসময় আলোচনায় থাকে।যুক্তরাজ্যকে ইংরেজিতে ইংল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র কে ইংরেজিতে আমেরিকা নামে ডাকা হয়। কিন্তু আমরা অনেকেই যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তফাৎ নিরূপণ করতে পারিনা। আসুন আজকে আমরা জেনে নেই যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে। 

যুক্তরাষ্ট্র বলতে কী বোঝায় ?

যুক্তরাষ্ট্র বলতে মূলত বোঝায় আমেরিকা কে। এর রয়েছে অঙ্গরাজ্য ও বিস্তৃত অঞ্চল। আমেরিকার রয়েছে প্রায় ৫০ টি ছোট বড় অঙ্গরাজ্য।

যুক্তরাষ্ট্রকে (U S A)বা United States Of America নামে ডাকা হয়। আমেরিকা উত্তর আমেরিকার মহাদেশের মধ্যভাগে অবস্থিত। আমেরিকার রাজধানীর নাম ওয়াশিংটন ডিসি সহ আরো 48 টি রাজ্য নিয়ে প্রশান্ত এবং পূর্ব আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যস্থলে অবস্থিত। পাঁচটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং 50 অঙ্গরাজ্য এবং একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় জেলা নিয়ে আমেরিকা গঠিত।

আমেরিকাকে যুক্তরাষ্ট্র বলে ডাকা হয় কেন?

ব্রিটিশ রা আমেরিকায় যে স্থানগুলিতে উপনিবেশ স্থাপিত করেছিল তখন কলোনির আকার ছিল ১৩টি। স্বাধীনতা লাভের পর এই এগুলো নিয়ে একটি দেশ গঠন হয়েছিল, আমেরিকাকে এইজন্য যুক্তরাষ্ট্র বলা হয়। খেয়াল করলে দেখবেন আমেরিকার পতাকায় 13 টি তারকা রয়েছে। 13 টি কলোনির জন্য 13 টি তারা ব্যবহার করা হয় ।

আশা করি আপনারা সকলেই বুঝতে পারছেন আমেরিকাকে কেন যুক্তরাষ্ট্র বলে।

যুক্তরাজ্য বলতে কী বুঝায়

ইংরেজিতে দেশটি(UK) United kinngdom নামে পরিচিত।যুক্তরাজ্য নামেও ডাকা হয় দেশটিকে।যুক্তরাজ্য কিন্তু শুধুমাত্র একটি অখন্ড রাষ্ট্র নয়। দেশটির চারটি সংবিধানিক রাষ্ট্র রয়েছে। যুক্তরাজ্যের একটি সরকারি নাম রয়েছে। সেটি হচ্ছে” দ্য ইউনাইটেড কিংডম অফ গ্রেট ব্রিটেন অ্যান্ড নর্দান আয়ারল্যান্ড”।দেশের চারটে সংবিধানিক দেশের নাম হচ্ছে, ইংল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ড ।

এটি একটি দ্বীপরাষ্ট্র। অনেক গুলো দ্বীপের সমন্বয় গঠিত বলে এটিকে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ নামেও ডাকা হয়। গ্রেট ব্রিটেন হচ্ছে সবচেয়ে বড় দ্বীপ। দক্ষিণ ও পূর্ব অংশ গঠিত হয়েছে যে বড় দ্বীপের সমন্বয়ে তার নাম হচ্ছে ইংল্যান্ড। এই দ্বীপটি জনবহুল।

ব্রিটেন নামে আবার পুরো যুক্তরাজ্যকে ডাকা হয়ে থাকে। কিন্তু গ্রেট ব্রিটেন দাড়া পুরো দেশকে না বুঝিয়ে শুধুমাত্র ওই দ্বীপটিকে কে বোঝানো হয়। আবার আমরা ইংল্যান্ড বলে দেশকে বলে থাকলেও তারা শুধুমাত্র দক্ষিণ-পূর্ব অবস্থিত বড় দ্বীপ কে বোঝায়। ওয়েলস, ইংল্যান্ড কিংবা স্কটল্যান্ড এর সবাই নিজের নামে পরিচিত।

যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য এর মধ্য পার্থক্য

যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য আলাদা দুটি দেশ। তাই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক পার্থক্য রয়েছে। নিচে দ্রুতির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করা হলো।

যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র অর্থাৎ দেশটি অনেকগুলো অঙ্গ রাজ্য নিয়ে গঠিত, যাতে আলাদা স্বায়ত্ব শাসন রয়েছে।
অপরদিকে ইউনাইটেড কিংডম বা যুক্তরাজ্য হচ্ছে গ্রেট ব্রিটেন, ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড অঞ্চল নিয়ে অনেক গুলো দ্বীপের সমষ্টি। দেশ টির অবস্থান ইউরোপ মহাদেশে।

যুক্তরাষ্ট্র সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র দেশ এবং যুক্তরাজ্যে রয়েছে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র এর পাশাপাশি সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে।
যুক্ত যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রা গণনা করা হয় ডলারে এবং যুক্তরাজ্যের গণনা করা হয় পাউন্ডে।

যুক্তরাজ্য মূলত মন্ত্রিসভা বা প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন প্রধান নেতা অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট শাসিত দেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চাশে রাজ্য রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাজ্য হচ্ছে চারটি পৃথক রাষ্ট্রের সমষ্টি।

শেষ কথা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য দুটি ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রের সমষ্টি। যুক্তরাজ্য ও ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আঞ্চলিক বৈচিত্র ও ও নামের পার্থক্য রয়েছে। আশা করি আপনাদের সবার ভাল লাগছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.