ইসরাইল সম্পর্কে অজানা তথ্য – যা জানলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন

ইসরাইল পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ। এটি ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ পূর্ব তীরে ও লোহিত সাগরের উত্তর তীরে অবস্থিত। এটির মধ্যে প্রাচ্যের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৫১জন অধিবাসী বাস করে।

অর্থনৈতিকভাবে ইসরাইল একটি অত্যন্ত উন্নত শিল্প প্রধান রাষ্ট্র। দেশটির জীবন যাত্রার মান সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের মধ্য সর্বোচ্চ। এশিয়াতে পঞ্চম এবং বিশ্বে ১৯তম। আমাদের আজকের পোস্টে ইজরায়েল সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কিছু বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

ইসরাইলের জন্ম ইতিহাস এবং রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের সাথে অতপ্রতভাবে জড়িত। ১৯৪৮ সালের ১৪ই মেয়ে ইজরাইল স্বাধীনতা ঘোষণা করে। স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকেই ইসরাইল প্রতিবেশী রাষ্ট্র আরব দেশগুলোর সাথে বেশ কয়েকবার যুদ্ধে লিপ্ত হয়।

দেশটি ১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা সামরিকভাবে দখল করে আছে। বর্তমানে পৃথিবীর ১৬১ রাষ্ট্র ইজরায়েলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও ৩১ টি রাষ্ট্র যেগুলো মূলত মুসলমান অধ্যুষিত তা এখনো ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব মেনে নেয়নি। এবং দেশটির সাথে তাদের কোন কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাদের অনেকের মতে ইসরাইল স্বাধীন রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের একটি অংশের অবৈধ দখলদার বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড।

তবে নিকটতম দুই আরব প্রতিবেশী মিশর ও জর্দানের সাথে ইজরাইল শান্তি চুক্তির স্বাক্ষর করেছে ও দেশ দুইটির স্বীকৃতি লাভ করেছে। ১৯৪৮ সালের ১৭ এই মেয়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ইসরাইলকে প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ইসরাইলের মোট আয়তন ২২ হাজার ৭২ কিলোমিটার। আয়তনের হিসেবে এটি বিশ্বের ১৫০ তম দেশ। এদেশের মোট জনসংখ্যা ২০২০ সালের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী ৯.২১৭ মিলিয়ন। জনসংখ্যার হিসেবে এটি বিশ্বের ৯৬ তম দেশ।

টেস্টের বর্তমান রাজধানী এবং বৃহত্তম শহর হচ্ছে জেরুজালেম। তবে এটি এখনো বিশ্বের সকল দেশ ধারা স্বীকৃত নয়। ইসরাইলে সরকারি ভাষা হচ্ছে দুইটি। এগুলো হচ্ছে হিব্রু এবং আরবি। ইসরাইল পৃথিবীর একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্র। এবং পৃথিবীতে ইসরাইল হচ্ছে একমাত্র দেশ যার নাগরিকত্ব আপনি ইহুদী হলেই পেয়ে যাবেন।

ইসরাইল একমাত্র দেশ যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক সকলের জন্য সেনা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। সুতরাং দেশটিতে যতজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক রয়েছে এককথায় ততজন সেনা সদস্য রয়েছে বলা যায়। এসব সেনা প্রশিক্ষণ স্বল্পমেয়াদি হয় না। সকল প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদের তিন বছরের এবং মেয়েদের দুই বছরের প্রশিক্ষণ নিতে হয়। ইসরাইলের বিমানবাহিনী বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বাহিনী।

সেটি খুবই শক্তিশালী একটি বাহিনী। এবং এই দেশের আগে রয়েছে রাশিয়া আমেরিকা এবং চীনের বিমানবাহিনী। ইজরায়েল অত্যন্ত কম জনসংখ্যা এবং আয়তনের দেশ হলেও এটি বিশ্বের ওই দুটি দেশের মধ্য একটি যাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। ইসরাইল তাদের স্যাটেলাইট অন্য কোন দেশের সাথে ভাগাভাগি করে না।

ইসরাইল বিশ্বের একমাত্র পরিপূর্ণ দেশ যেটি এন্টি বেলাস্টিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম এর অধিকারী। অর্থাৎ এর পুরো সীমান্তবর্তী এলাকা এন্টি বেলেস্টিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের অধীনে রয়েছে। এজন্য ইসরাইল চারিদিকে শত্রু রাষ্ট্র দিয়ে ঘেরা থাকলেও এখন পর্যন্ত সুরক্ষিত রয়েছে।

ইসরাইলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে বিশেষ মুদ্রা। বিশেষ বর্ণের সহায়তায় কাগজের নোটগুলোতে লেখা থাকে বলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের কেনাকাটা বা মুদ্রা বিনিময়ে কোন অসুবিধা হয় না। সারা বিশ্বে ইসরাইল ছাড়াও কানাডা মেক্সিকো ভারত এবং রাশিয়াতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

নোবেল বিজয়ী জার্মান পদার্থ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদী নিধন বন্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। ইসরাইল তার কথা শুধু কৃতজ্ঞচিত্তে মনেই রাখেনি। তাকে সম্মান জানাতে চেয়েছিল প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে। ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন আইনস্টাইন।

বিশ্বের প্রথম এন্টিভাইরাস ১৯৭৯ সালে ইসরাইলে বানানো হয়। ইসরাইল এর মোট খাদ্য চাহিদার ৯৫% নিজেরাই উৎপাদন করে থাকে। কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইজরাইল পুরোপুরি ভাবে নিজেদের উপর আত্মনির্ভরশীল।

ইজরায়েলের মানুষ প্রতিবছর সত্যি সত্যি ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখে থাকে। প্রতিবছর জেরুজালেমের ডাক বিভাগ এমন অন্তত হাজার খানে চিঠি পায় যেখানে প্রাপকের জায়গায় লেখা থাকে ঈশ্বর। ইসরাইলের জনগণ অত্যন্ত উচ্চ শিক্ষিত। এখানকার প্রায় অর্ধেক জনগণ যাদের বয়স প্রায় ২৫ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় বা তার সমপর্যায়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে। যা বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ।

ইসরাইলের অর্থনীতি আধুনিক পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনীতির সমপর্যায়ে। ইজরাইলের নিজস্ব সম্পদের পরিমাণ খুবই কম। দেশটি ১৯৭০ এর দশক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের অনুদান পেয়ে আসছে। তবে ১৯৯৮ এরপর থেকে এই অনুদানের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া হয়। ইসরাইলে প্রায় তিন হাজার এরও বেশি হাইটেক কোম্পানি রয়েছে।

যা সিলিকন ভ্যালির পর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় মুদ্রা হচ্ছে ইজরাইলি সেকেল। এদেশের মোট জিডিপি ২০২০ সালের পূর্বে ছিল ৩৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এবং ইসরাইলের ডায়ালিং কোড হচ্ছে +৯২৭। আজকের মতো এই পর্যন্তই। এ বিষয়ে আপনাদের কোন মতামত বা আরো কিছু জানার থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে ভূলবেন না।

আরো দেখুনঃ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *