চীনের প্রাচীর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য -জানলে অবাক হয়ে যাবেন

চীনের মহাপ্রাচীর এর নাম শুনেনি এমন মানুষ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া দায়। চীনে এই প্রাচীর কে ডাকা হয় “ছাং ছং” বা দীর্ঘ প্রাচীর নামে। দীর্ঘ এই প্রাচীর প্রায় পুরোটাই মাটি এবং পাথর দিয়ে তৈরি। -Facts About Great Wall of China

শুনলে অবাক হয়ে যাবেন যে মানুষের তৈরি এই বিশাল প্রাচীর চাঁদ থেকে পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি হচ্ছে চীনের এই মহা প্রাচীর। আক্রমণকারীদের দূরে রাখা এবং সামরিক অনুপ্রবেশ ঠেকানোই ছিল এই বিশাল প্রাচীরের উদ্দেশ্য।

এই দেয়াল নির্মাণের প্রকল্পটি পৃথিবীর অন্যতম ব্যয়বহুল প্রকল্প হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সামরিক কাঠামো এটি। এটি মানুষের হাতে তৈরি সবচেয়ে বড় স্থাপত্য।

উচ্চতায় প্রায় পাঁচ থেকে আট মিটার উঁচু এই প্রাচীর। আর লম্বায় ৬,৫৩২ কিলোমিটার। আমাদের আজকের পোস্টে পৃথিবীর এই দীর্ঘতম প্রাচীর এর ইতিহাস এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

ভৌগলিক আকৃতির দিক থেকে চীন বিশাল বড় একটি দেশ। দেশটির সম্পূর্ণ উত্তর সীমান্ত এই দেয়াল দিয়ে ঘেরা। ৬৫৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রাচীর একটি পরিচিত চীনের মহাপ্রাচীর নামে।

এটি কোন ছোটখাটো দেয়াল নয়, প্রাচীরটি ভিশন উঁচু এবং এতটাই চওড়া যে পাঁচজন ঘোর-সাওয়ার পাশাপাশি যেতে পারে।

চীন দেশের সভ্যতা শুরু হয়েছিল অনেক আগে। সে সভ্যতা পরিচিত ছিল চীন সভ্যতা বা চৈনিক সভ্যতা নামে। চীনের উত্তর প্রান্তে ছিল ছোট বড় কয়েকটি রাজ্য। সেইসব রাজ্যের পরেই নানা যাযাবর জাতির বসবাস। এরা ছিল জাত লুটেরা। চীনের রাজ্যগুলির সীমানা পেরিয়ে প্রায়শই হামলা চালাত।

লুট করে নিয়ে যেত ক্ষেতের ফসল এবং গবাদি পশু। মাঝেমধ্য গ্রামবাসীদের ও ধরে নিয়ে যেত। ওদের দমন করা ও ছিল মুশকিল। কারণ তারা ছিল দুর্ধর্ষ যোদ্ধা।

এই যাযাবর লুটেরা দের হাত থেকে বাঁচতে রাজ্য ও রাজ্যের মানুষকে বাঁচাতে শুরু হলো সীমান্তে দেয়াল তোলা এবং দুর্গ স্থাপন। এভাবেই শুরু হল চীনের মহাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ।

খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে অর্থাৎ আজ থেকে দুই হাজার আটশ বছর আগে এই প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজা এই প্রাচীরের বিভিন্ন অংশ তৈরি করে।

তবে ২২০ থেকে ২০৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রাচীরের সব থেকে বড় অংশ নির্মাণ করেন চীনের সম্রাট শি হুয়াং। তিনি চীনের ছোট বড় রাজ্যগুলিকে দখল করে এক বিরাট চীন সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।

আর সেই জন্যই বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা খণ্ড খণ্ড প্রাচীর গুলো জোড়া দিয়ে তিনি উত্তর সীমান্তে মহাপ্রাচীর গড়ে তোলে।

চীন রাজবংশের সম্রাট শি হুয়াং এই প্রাচীরের মধ্য দুর্গ গড়ে তোলে। আর সেই দুর্গে অন্যরা সীমান্ত পাহারা দিতো। এবং দুর্গ থেকে শত্রুর দেখা পেলে ধোয়া দিয়ে সিগন্যাল দিত।

তবে এত লম্বা একটি প্রাচীর দেখ ভাল করা এতটা সহজ ছিল না। এরমধ্য প্রাচীরের অনেক অংশ না না জায়গায় ভেঙে পড়েছিল। পরে মধ্যযুগের মিং সম্রাটরা এই প্রাচীরের পুনঃ নির্মাণ করেন। এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশগুলো মেরামত করেন।

চীনের এই মহাপ্রাচীর শুধুই যে যাযাবর লুটেরা দের হাত থেকে রক্ষা করতো তাই নয়। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের জন্যেও এই প্রাচীর বেশ কার্যকরী ছিল।

পাথর, কাঠের ফ্রেমে কাদা ভরে এবং পোড়ামাটির ইট দিয়ে করা হয়েছিল এই মহাপ্রাচীর। সেই যুগের হাতিয়ার বলতে ছিল শাবল, কোদাল, হাতুড়ি, বাটাল এইসব। সেইসব হাতিয়ার দিয়ে পাহাড়ের উপর এইসব পাথর দিয়ে যে প্রাচীর গড়ে তোলা ভিশন কঠিন কাজ ছিল তা নিশ্চয়ই সবাই আন্দাজ করতে পারে।

বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করতে গিয়ে কত শ্রমিক যে প্রাণ হারিয়েছে তার কোন হিসেব নেই।

শুধু পাহাড়ের উপর দিয়েই নয়। এই প্রাচীর গিয়েছে মরুভূমি এবং নদীর উপর দিয়েও। নদীর ওপর দিয়ে সেতুর মতো গিয়েছে এই প্রাচীর।

চীনের এই মহাপ্রাচীর কে তুলনা করা হয় বিশাল এক ড্রাগনের সাথে। পূর্বের সাংহাই থেকে পশ্চিমের টবলেক পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। শুরু এবং শেষের দিকটা দেয়া হয়েছিল ড্রাগনের মাথা এবং লেজের আকৃতি। ড্রাগনের লেজ দিয়ে নেমেছে সমুদ্রের পানিতে।

বর্তমানে চীনের এই মহাপ্রাচীর পর্যটকদের জন্য দারুন এক আকর্ষণীয় জায়গা। এটি পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি। পর্যটকদের জন্য কিছু কিছু অংশে গ্রেট ওয়াল এ চড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

চীনের রাজধানী বেইজিং এর একদম পাশ ঘেঁষে গিয়েছে এই গ্রেট ওয়াল। বেইজিং থেকে যারা গ্রেট ওয়াল দেখতে যান তারা সাধারণত গ্রেট ওয়াল এর পাহাড়ি একটি অংশে চরে থাকে।

মহাপ্রাচীরের এই অংশটি পাহাড়ের উপরে। ২৬ ফুট উঁচু পাথরের দেয়াল 16 ফুট চওড়া। পাহাড় বেয়ে প্রাচীর পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য রয়েছে কয়েকশো ধাপের সিঁড়ি।

সিঁড়ি বেয়ে গ্রেট ওয়াল এর উপরে উঠলে দেখা যায় চারদিকে পাহাড়ের সারি। তার উপর দিয়ে একে একে চলে গিয়েছে প্রাচীর। ঠিক যেন ড্রাগনের লম্বা লেজ। শত শত মানুষ এই প্রাচীরের উপর দিয়ে হেঁটে চলে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসেন এই গ্রেট ওয়াল দেখতে। তাই সুযোগ থাকলে আমাদের প্রত্যেকেরই এখানে যাওয়া উচিত প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম সৌন্দর্যের বিরল এই প্রতিচ্ছবি দেখতে। আমাদের আজকের পোস্ট এখানেই শেষ করছি। এ বিষয়ে আপনাদের কোন মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানান।

আরো দেখুনঃ 

কানাডা সম্পর্কে বিষ্ময়কর কিছু তথ্য -সবারই জানা প্রয়োজন

সিঙ্গাপুর সম্পর্কে বিষ্ময়কর কিছু তথ্য

যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য !

সাহাবী গাছ সম্পর্কে অজানা সব তথ্য এবং বিস্তারিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *