পিঁপড়া সম্পর্কে অজানা তথ্য- চমৎকার কিছু ফ্যাক্টস

মানুষ যেমন বিবেক সম্পন্ন প্রাণী, পিপড়াও তেমন বোধ সম্পন্ন সামাজিক ও পরিশ্রমী প্রাণী। বিভিন্ন অনলাইন সোর্স অনুযায়ী পৃথিবীতে ২২ হাজার প্রজাতির পিঁপড়া রয়েছে। এর মধ্য বিজ্ঞ্যানী রা ১২,৫০০ প্রজাতি শ্রেণি বিন্যাস করেছেন।

পতঙ্গ বিজ্ঞ্যানীদের মতে পিঁপড়া একটি সামাজিক পতঙ্গ।মানুষের মতো পিঁপড়া দেরও সমাজ, পরিবার তথা রাষ্ট্র ব্যাবস্থা রয়েছে। নিজস্ব বাজার এবং উন্নত্মানের যোগাযোগ ব্যাবস্থাও রয়েছে তাদের। তারা খাদ্য সঞ্চয় করে। পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে শীতের দিনে তা রোদে শুকাতে দেয়।

তাদের মধ্য যুদ্ধ বিগ্রহ ঘটে। এবং মানুষের মতোই তারা চরম প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে থাকে। পতঙ্গ বিজ্ঞানী ড. উইলসন পুরো পৃথিবী ঘুরে ৫০০ প্রজাতির পিঁপড়ার উপর পর্যবেক্ষণ করে এই তথ্যগুলো নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পিঁপড়া মানুষের মতোই তাদের মৃত দেহগুলোকে কবর দেয়।

এরা দলবদ্ধভাবে বাস করে। একটি দলে তিন ধরণের পিঁপড়া থাকে। রাণি পিঁপড়া, শ্রমিক পিঁপড়া এবং পুরুষ পিঁপড়া। এদের প্রত্যেকের কাজ ভিন্ন ভিন্ন। রাণী পিঁপড়ার কাজ হচ্ছে ডিম পড়া এবং বংশ বিস্তার করা। এরা দিনে গড়ে ১৫০০ ডিম পাড়ে।

পুরুষদের কাজ হচ্ছে রাণীর পাশে পাশে থেকে সন্তান উৎপাদনে ভূমিকা রাখা। পিঁপড়ার আকারগত বেশ পার্থ্যক্য রয়েছে। ০.০৩০ ইঞ্চি থেকে ২ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা আছে। পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় যে পিঁপড়া টির জ্বীবাশ্ব পাওয়া গেছে সেটি ২.৪ ইঞ্চি লম্বা ছিলো। এবং এর ডানার বিস্তার ছিলো ৫.৯ ইঞ্চি।

অধিকাংশ পিঁপড়ার রঙ লাল ও কালো। তবে কিছু প্রজাতির পিঁপড়ার রঙ সবুজ। কিছু পিঁপড়ার ওজন এক আউন্স এর দশ হাজার ভাগের এক ভাগ মাত্র। ৩৫২ টি ক্ষুদ্র পিঁপড়া মিলে ওজন হয় ২ গ্রাম। পুরুষ পিঁপড়ার পাখা থাকে কিন্তু রাণী ও শ্রমিক পিঁপড়ার পাখা থাকে না।

অনেকে শ্রমিক পিঁপড়ার পিছন দিকে হুল থাকে। যার সাহায্য এরা অন্যান্য প্রাণির দেহে হুল ফোটায়। অবশ্য হুল ফোটানোর কিছুক্ষণ পরেই এরা মারা যায়। অধিকাংশ পিঁপড়ার দুটি চোখ থাকে এবং এতে কয়েকটি লেন্স থাকে। যার সাহায্যে পিঁপড়া খুভ ভালোভাবেই দেখতে পায়। কিছু পিঁপড়ার অবশ্য তিনটি সাধারণ চোখ থাকে। এই চোখের প্রতিটি তে একটি করে লেন্স থাকে।

পিঁপড়ার চোয়াল খুভই শক্ত। এরা চোয়ালকে আশেপাশে নাড়াতে পারে। এর সাহায্যে এরা মাটি নারাতে পারে। মাটি খোড়া, খাবার সংগ্রহ, যুদ্ধে অংশগ্রহন ইত্যাদি কাজ করে থাকে এই চোয়ালের দ্বারা। নিশাচর প্রণীর মতো মাটির নিচে বাস করে কিছু পিঁপড়া। এরা দিনে দেখতে পায় না। এদের চোখে কোন প্রতিবিম্ব ঘটিত হয় না বলে এরা রাতেই ভালো দেখে।

পিঁপড়া কে সবসময় ব্যাস্ত থাকতেই দেখা যায়। পিঁপড়া কখন ঘুমায় তা কেউ বলতে পারে না। কারণ এদের চোখের পাতা নেই। তাই এরা চোখ বন্ধ করতে পারে না। পিঁপড়ার ফুসফুস নেউ। শুধু একটি গর্তের সাহায্যে এরা শ্বাস নেয়।

শীতকালে এদের শ্বাসপ্রশ্বাস কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে চলে। কোন কোন পিঁপড়া ১৫ বছর পর্যন্ত বাচে। তবে বেশিরভাগ পিঁপড়া কয়েক মাসের বেশি বাচে না। তবে সাধারণত পিঁপড়ার জীবনকাল ২৮ বছর হিসেবে ধরা হয়।  পুরষ পিঁপড়া সবচেয়ে কম সময় বেচে থাকে। রাণী পিঁপড়া মারা গেলেই পিঁপড়ার দল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

কারণ শ্রমিক পিঁপড়ার সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা থাকে না। পিঁপড়া একটি কলনিতে বাস করে। একেকটি কলনিতে কম করে হলেও ৪৩ হাজার পিঁপড়া থাকে। একেকটি কলোনিতে অনেকেগুলো ঘর থাকে। এরা একেক ঘর একেক কাজে ব্যাবহার করে। যেমন খাবার মজুত, ডিম সংরক্ষণ করা, বাচ্চা পিঁপড়া দের যত্ন করা ইত্যাদি।

রাণী পিঁপড়াদের জন্য থাকে আলাদা ঘর। এমনকি কোন কোন কলোনিতে কারখানাও থাকে। পিঁপড়া রা ময়লা আবর্জনার ডিপের মধ্যই কলোনি নির্মান করে। এরকম একটি কলোনি নির্মান করতেই প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর সময় লাগে। আর মাটি লাগে প্রায় ৪০ টন।

গাছের পাতা পচা কাঠ কাদা ইত্যাদি সংগ্রহ করে মুখের লালার সংগে মিশিয়ে ছোট ছোট করে বানিয়ে তা দিয়ে বাড়ি তৈরি করে। পিঁপড়া রা ৪০/৫০ তালা পর্যন্ত বাড়ি তৈরি করে থাকে। তাদের তৈরি বিশালাকার কলোনি কে সুপার কলোনি বলে।

দক্ষিণ ইউরোপের ভূমধ্য সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর বরাবর ৬ হাজার কিলোমিটার লম্বা একটি সুপার কলোনির সন্ধান পাওয়া গেছে। সুপার কলোনিটি ছিলো জাপানের হুকাইডর ইশিকারি উপকূল এ। এই সুপার কলোনিতে কর্মী পিঁপড়া ছিলো ৩০ কোটি ৬০ লাখ। রাণি পিঁপড়া ছিলো এক লাখ। রাণী পিঁপড়া ছিলো এক লাখ।

২.৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুরে বিস্তৃত এই সুপার কলোনিতে বাসার সংখ্যা ছিলো ৪৫ হাজার। পৃথিবির সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে সৈনিক পিঁপড়া। এরা দল বেধে চলে। এদের একটি দলেই ২০ লাখ পিঁপড়া থাকতে পারে। কোন কোন সময় সৈনিক পিঁপড়ার সাড়ি মাইলের পর মাইল ছড়িয়ে থাকে।

এদের সবচেয়ে বেশি দেখা যায় মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায়। আফ্রিকার সৈনিক পিঁপড়া কে বলা হয় চালক পিঁপড়া। আক্রমণাত্বক আচরণের জন্য পৃথিবীর প্রায় ২০০ প্রজাতির পিঁপড়া কে সৈনিক পিঁপড়া নামেই ডাকা হয়।

গন্ধ অনুসরণ করেই পিঁপড়া খাবারের অনুসন্ধান করে। পিঁপড়া দের যোগাযোগের মাধ্যম খুভই চমতকার। একে অপরের শরীর ছুয়ে যোগাযোগ রক্ষা করে এরা। এছাড়াও পরস্পরের শুর ছুয়েও নিজেদের মধ্য তথ্য আদান প্রদান করে থাকে। এরা অনেক দূর থেকে খাবারের গন্ধ পায়। স্বাদ, গন্ধ এবং স্পর্শ এই তিন মাধ্যমে তারা বুঝতে পারে যে আশে পাশে কি আছে।

পিঁপড়া দের যে সারবদ্ধভাবে চলতে দেখা যায় তার কারণ হচ্ছে গন্ধ ও দূরত্বের হিসাব। পিঁপড়া নিজের ওজনের পঞ্চার গুণ বেশি ওজন বইতে পারে। আকৃতিতে ক্ষুদ্র হলেও লাল পিঁপড়া বা বিস পিঁপড়া নামে পরিচিত পিঁপড়া দের রয়েছে চরম একতা। পিঁপড়ার যথেষ্ট সরণ শক্তি রয়েছে।

ফরাসী জীব বিজ্ঞানী রা দেখতে পেয়েছেন যে দুটি আলাদা প্রজাতির পিঁপড়া এক সংগে তিন মাস রাখার পর আলাদা করা হলে তার এত পরেও একে অপরকে চিনতে পারে। আজব এক ধরনের পিঁপড়া হচ্ছে পাতা পিঁপড়া। এরা বাস করে দক্ষিণ পূর্ব আমেরিকায় এবং মধ্য ও দিক্ষিণ আমেরিকায়। পাতা কাটা পিঁপড়ার চোয়াল খুভই শিক্তিশালী।

পাতা কাটা পিঁপড়া নিজেরাই নিজেদের খাবার চাষ করে। এদের খাবার হচ্ছে এক ধরণের ছত্রাক। একজন ভুতত্ববিদ বলেন পিঁপড়ার মধ্য যারা আগাম বিপদ সংকেত বুঝতে পারে শুধু তারাই ভূমিকম্প প্রবল এলাকার আশে পাশে বাস করে। কারণ এসব এলাকাই এদের জন্য আরামদায়ক। এদের বেচে থাকার জন্য অতিরিক্ত উষ্ণতা ও আদ্রতা প্রয়োজন।

যা শুধু এসব এলাকাগুলোতেই পাওয়া যায়। জার্মানের পতঙ্গ বিজ্ঞানী অলরিশ বলেন, পিঁপড়া আগাম বিপদ সংকেত বুঝতে পারে। এবং নিজেদের বাঁচানোর জন্য সর্বাত্বক ব্যাবস্থা গ্রহণ করে থাকে। তবে এই বিজ্ঞানির দাবী, শুধু লালচে বিশেষ পিঁপড়াই এমনটি বুঝতে পারে।

প্রযুক্তির রাজধানিখ্যাত জাপান এবং জার্মানির সর্বোচ্চ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়েও যখন ভূমিকম্প রোধে সফল হলো না। তখন তারা প্রকৃতির দারস্থ হলো। জার্মান বিজ্ঞানী রা অনবরত ২ বছর ধরে ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে পিঁপড়ার গতিবিধি লক্ষ করেন। তারা দেখেন ভূমিকম্পের ঠিক আগ মুহূর্তেই পিঁপড়া দের অস্থিরতা লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে যায়। পাল্টে যায় তাদের গতিবিধিও।

ফ্যাক্টস ১ঃ পিঁপড়ার কোন কান নেই।

ফ্যাক্টস ২ঃ পোকামাকড়দের মধ্যে সর্ববৃহত মস্তিষ্কের অধিকারী।

ফ্যাক্টস ৩ঃ এদের ২ টি করে পাকস্থলি রয়েছে।

ফ্যাক্টস ৪ঃ কিছু কিছু পিঁপড়া নিজদের আত্বরক্ষার জন্য এসিড ছুড়ে দিতে পারে।

ফ্যাক্টস ৫ঃ পিঁপড়া তাদের শরীরের ওজনের ১০-৫০ গুণ তুলতে পারে।

আরো দেখুনঃ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *