ব্লকচেইন প্রযুক্তি কি? বিটকয়েন ব্লকচেইন প্রযুক্তি এবং অন্যান্য মুদ্রা

ব্লকচেইন, তথ্য স্থানান্তর এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো ব্লক চেইন টেকনোলজি। আমাদের আজকের পোস্টে আমরা ব্লকচেইন সম্পর্কিত বিস্তারিত বর্ণনা উপস্থাপন করব।

ব্লকচেইন হচ্ছে ব্লকের চেন। যেমন একটি ব্লগের সাথে আরেকটি ব্লগ সংযুক্ত করে এবং ওই ব্লকের সাথে আরও একটি ব্লগ সংযুক্ত করে যেমন চেইন আকার তৈরি হয় এটিকে ব্লকচেইন বলে। একেকটি ব্লকের মধ্যে মূলত অনেকগুলো ইনফরমেশন থাকে। যেমন বিটকয়েন ব্লকচেইন গুলোতে মূলত ট্রানজেকশন এর ইনফরমেশন থাকে। কে কাকে কত বিটকয়েন প্রদান করল তার ইনফর্মেশন এই ব্লকচেইন এ সংরক্ষণ করা থাকে। এবং কোনরকম হ্যাকার দ্বারা এই তথ্যগুলো পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব।

কারণ প্রত্যেকটি ব্লকের একটি ইউনিক হ্যাস থাকে। ধরুন হ্যাকার দ্বিতীয় ধাপের একটি তথ্য পরিবর্তন করেছে। যখন এই ব্লকটির তথ্য পরিবর্তন করা হয় তখন এই ব্লকের সামনে থাকা এই ব্লকের Hash টির সাথে মিলবে না। যদি হ্যাকার তৃতীয় ধাপে থাকা দ্বিতীয় ব্লকের হ্যাস টি পরিবর্তন করে তাহলে চতুর্থ ধাপে থাকা তৃতীয় ব্লকের হ্যাস মিলবে না। এভাবে সম্পূর্ন চেইন টি একটি আরেকটির সাথে সম্পৃক্ত। আর এই সম্পূর্ন চেইন টিকে হ্যাক করা বা ক্র্যাক করা প্রায় অসম্ভব। কারণ এই কাজটি খুব দ্রুত সম্পাদন করতে হয়। কিন্তু বিটকয়েনের নেটওয়ার্ক এ একটি ব্লক তৈরি করতে বা সংশোধন করতে ১০ মিনিট সময়ের প্রয়োজন। যার ফলে বিটকয়েনের নেটওয়ার্কটি এত নিরাপদ।

এই পদ্ধতিতে আরো নিরাপদ করতে p2p সিস্টেম চালু করা হয়। এর মাধ্যমে যে কেউ এই নেটওয়ার্ক এ যুক্ত হতে পারে। প্রত্যেক মাইনার এর কাছে একটি ফুল ব্লক চেইন এর কপি থাকে।এবং অন্য মাইনার দের সাথে সাথে সেও তার এই ব্লক চেইন এর কপি টাকে আপডেট করে।

নতুন কোন ট্রানজেকশন কমপ্লিট হলে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড থাকা সকল কম্পিউটারে ব্লক চেইন e অটোমেটিক এটি আপডেট হয়ে যাবে। বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মাইনার রয়েছে। একসাথে সবগুলো ব্লক আপডেট করে তা সকল মাইনার দের রিপ্লেস করা অসম্ভব।

শুধু বিটকয়েনের বা ক্রিপ্ট কারেন্সি না। এ পদ্ধতি টি ডাটা সংরক্ষণ বা ট্রানজেকশন এর ক্ষেত্রে অনেক বড় একটি ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই এটি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। দেশের দুর্নীতি কমানোর জন্য এবং জনগণের তথ্য সংরক্ষণ করার জন্য।

গোটা বিশ্ব এখন ঝুঁকছে ব্লকচেইন নামক প্রযুক্তির জোয়ারে। বলা হচ্ছে যা আগামী দিনে আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবসা কে বদলে দেবে। এ প্রযুক্তির বিকাশে এরই মধ্যে 17 ট্রিলিয়ন ডলার এর বাজার ও তৈরি হয়েছে। যা দখলে নিতে পারে বাংলাদেশ যদি আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া যায়।

আরো দেখুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *