বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে – বিটকয়েন প্রাইস ইন বাংলাদেশ

ক্রিপ্টোকারেন্সি বলতে যে শুধুমাত্র বিটকয়েন কে বোঝানো হয় সেটি ভুল ধারণা। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ যারা এই বিষয়ে তেমন একটা বোধগম্য নয় তারা মনে করেন ক্রিপ্টোকারেন্সি বলতে শুধুমাত্র বিটকয়েন। আসলে ভার্চুয়াল জগতে বিভিন্ন ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়েছে। তারমধ্য বিটকয়েন হচ্ছে অন্যতম। আমাদের আজকের পোষ্টে বিটকয়েন সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা। বিটকয়েন মূলত কিভাবে কাজ করে বাংলাদেশ এর দাম কিরকম এবং বাংলাদেশ এটি কেন নিষিদ্ধ এ বিষয়ে কিছু তথ্য আমাদের এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব তথ্য জানতে হলে অবশ্যই আমাদের পোস্ট টি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। তাহলে আশাকরি বিস্তারিত ধারণা অর্জন করতে পারবেন বিটকয়েন সম্পর্কে।

বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে- বিটকয়েন কী?

সময়ের সাথে সাথে সবকিছুই চেঞ্জ হয়ে যায়। এ পৃথিবীতে যাতায়াতের জন্য একদম শুরুতে ব্যবহার করা হত ঘোড়া তবে বর্তমানে মিলিয়ন ডলারের ধাতুর তৈরি বিমান তৈরি করা হয় যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য।

অতীতে কারো যদি চোখের সমস্যা থাকতো তাহলে সে ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যেত। তবে বর্তমানে আমরা জানি যে চোখের সামনে যদি একটি সঠিক কাঁচের টুকরো রাখা হয় তাহলে দৃষ্টিশক্তি আবার আগের মতো ফেরানো সম্ভব।

একটি সময় এসব কিছুই একেবারে অবাক করে দেওয়ার মত ছিল। তবে আমাদের জীবনকে একেবারে পরিবর্তন করে দেওয়ার মত আবিষ্কারগুলো আমাদের উপর এই ভাবে প্রভাব ফেলে। আর বিটকয়েন হচ্ছে এরকম ধরনের আবিষ্কার গুলোর মধ্যে একটি।

যদি আমরা বুঝতে চাই যে সময়ের সাথে সাথে এই বিটকয়েন অর্থনীতিকে কি পরিমান চেঞ্জ করে দিয়েছে তাহলে আমাদের ফেস ট্রানজিশন এর কনসেপ্ট টাকে ভালভাবে বুঝতে হবে। এই ফেস ট্রানজেকশন এর সময় কোন পদার্থের প্রপার্টি একেবারে চেঞ্জ হয়ে যায়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায় পানি, পানি কঠিন পদার্থে অবস্থান করতে পারে যাকে আমরা বরফ হিসেবে চিনি। গলে গেলে এটি তরল আকার ধারণ করে। আবার ফুটালে বাষ্পে পরিণত হয়ে যায়।

এছাড়া দেখুনঃ ব্লকচেইন প্রযুক্তি কি? বিটকয়েন ব্লকচেইন প্রযুক্তি এবং অন্যান্য মুদ্রা

এরকম একই জিনিস অর্থনীতি বা ফাইন্যান্স জগতেও হয়ে থাকে। এটি হলো ইউএস ডলার তবে এই ডলার সব সময় এরকম একই ছিলনা। অনেক কম সময়ের ব্যবধানে এটি ব্যাপক পরিবর্তন লাভ করে। আর ভবিষ্যতেও এই পরিবর্তন চলতে থাকবে।

এর শুরুটা হয়েছিল সোনার মুদ্রা দিয়ে। তারপর কাগজের মুদ্রা তৈরি হয় যা শুনার সমপরিমাণ ছিল। তবে বর্তমানে যে ডলার আমরা ব্যবহার করি যে দেশে আমরা থাকি সেই দেশে যে কারেন্সি আমরা ব্যবহার করি তাকে ব্যাক করার মতো কোন কিছুই থাকেনা।

এদের ভাল আমরা একারনে দেই কারণ সাধারণ মানুষ মনে করেন যে এর মূল্য আছে। সুতরাং আমরা যে মূল্যবান মনে করি সে টাকাগুলো আসলে কাগজের টুকরো ছাড়া কিছুই নয়।

তারপর সময়ের সাথে সাথে মানুষ পেমেন্ট করার জন্য কাগজের টুকরোর সাথে আরো অনেক কিছু ব্যবহার করে। যেমন ক্রেডিট কার্ড ডেবিট কার্ড ওয়ার ট্রান্সফার ইন্টারনেট ব্যাংকিং ইত্যাদি।

যাকে আমরা কারেন্সি বলি মানে বলে থাকি তার কনসেপ্ট সময়ের সাথে সাথে আমাদের কাছে চেঞ্জ হয়ে গেছে। শুরুতে লেনদেনের জন্য মানুষ গরু বাছুর এগুলো ব্যবহার করত। তারপর স্বর্ণ এবং রুপোর মুদ্রা। এভাবে ব্যাংকিং সিস্টেম এবং এটিএম কার্ড। সবশেষে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ রকেট নগদ ইত্যাদি। মূলত এগুলো হচ্ছে পেমেন্ট করার একটি মাধ্যম।

বিটকয়েন একটি Peer to peer electronic cash system. এর 9 পাতার একটি ডকুমেন্ট 2008 সালে পাবলিশ করা হয়। বিটকয়েন এর কর্তৃপক্ষ বা আবিষ্কারক নাম হচ্ছে Satoshi Nakamoto. তবে এই ব্যক্তি যে কে সেটি এখন পর্যন্ত জানা যায় নি। এটি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট গুলোর মধ্যে একটি। মাত্র 9 পৃষ্ঠার এই ডকুমেন্ট ভবিষ্যতের ফাইন্যান্স জগতকে বদলে দিতে সক্ষম।

কারণ হয়তো আপনি তার জন্য কোন কাজ করে দিয়েছেন, কিংবা কোন প্রোডাক্ট এর সঙ্গে কোন ভ্যালু অ্যাডেড করেছেন। এছাড়া কোন দোকানদারকে যদি আপনি কোন টাকা দেন তাহলে তিনি আপনাকে কোন না কোন কিছু দিয়ে থাকে। আর এই নিয়মটি সারা পৃথিবী জুড়ে একই। অতএব কোনো পরিশ্রম বা দোকানের পণ্যের মূল্য বোঝানোর জন্য আমরা কাগজের টাকা ব্যবহার করে থাকি।

তবে সব সময়ে এটি কোন কয়েন বা কাগজের টুকরো তে মাপা হতো না। ইতিহাসের বিভিন্ন সময় এই টাকাকে বিভিন্ন জিনিসের ধারা রিপ্রেজেন্ট করা হয়েছে।

যেমন অতীতে চালডাল কিংবা গৃহপালিত পশু পাখির বিনিময়েও মানুষ ব্যবসা চালিয়ে এসেছে। যাকে বিনিময় প্রথা বলা হয়ে থাকে। তবে সমস্যা ছিল যে এই চাল-ডাল তথা পশুপাখি সারা জীবনের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা যেত না। এই কারণে এরপর মূল্যবান ধাতুর ব্যবহার শুরু হয়। যেমন তামা রুপা কিংবা সোনা। এগুলোর সুবিধা ছিল যে এগুলো মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করে রাখতে পারতো। এবং প্রয়োজন মতো খরচ করতে পারত। তবে সমস্যা ছিল এই সোনা রুপা কে সব জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এবং ছোট ছোট বিনিময় করার ক্ষেত্রে সোনা রুপা ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়তো।

এরপর আসে ব্যাংকিং সিস্টেম। ব্যাংক যখন প্রথম আসে তখন আপনি সোনা রুপা কে ব্যাংকে ডিপোজিট করে রেখে তার বদলে ব্যাংক থেকে একটি রিসিভ কপি পেতেন। আর সেই রিসিভ এর উপর বিশ্বাস করে মানুষ কোন ট্রানজেকশন সম্পাদন করতে পারত রিসিভের ধারা।

সময়ের সাথে সাথে ঐ রিসিভ কাগজের মুদ্রা পরিণত হয়। এবং ওই মুদ্রা ব্যাকআপ করার জন্য ব্যাংকের কাছে সমপরিমাণ সোনা বা রুপা রিজার্ভ থাকতো।

তারপর ধীরে ধীরে সবকিছু চেঞ্জ হয়ে যায়। এরপর আসে ফ্ল্যাট মানি। আগে যে টাকা ছিল তার বিনিময় ব্যাংকে সোনা রিজাভ থাকতো। এবং সেই ব্যাংক এর রিজাভ কৃত সোনার উপর বিশ্বাস করে মানুষ এক্সচেঞ্জ করত। এবং ওই কাগজের টাকা কে এক্সেপ্ট করত।

কিন্তু যখন ফ্ল্যাট মানি আসলো তখন সোনার উপর বিশ্বাস টি কমে গিয়ে সরকারের উপর চলে যায়। অতএব বর্তমানে যে কাগজের মুদ্রা কে আমরা ব্যবহার করি। তার জন্য যে ব্যাংকে সোনা রিজার্ভ রয়েছে এরকম টি নয়। আমাদের দেশের সরকার বলে যে এই কাগজের মুদ্রার ভ্যালু রয়েছে । এজন্যই এর মান আছে।

তাহলে প্রশ্ন করতে পারেন যে কোন দেশের সরকার নিজের ইচ্ছে মত টাকা ছাপাতে পারে না কেন? এর প্রধান কারণ হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি। সরকার যদি বেশি পরিমাণে টাকা ছাপায় তাহলে সবাই যে সবকিছু পেয়ে যাবে এমনটি নয়। কারণ টাকা যত বেশি ছাপানো হবে তার ভ্যালুটা ততো বেশি কমে যাবে। এবং জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে।

এরপর ধীরে ধীরে কাগজের মুদ্রা ডিজিটাল মুদ্রা এ রুপান্তর হয়ে যায়। কিন্তু ডিজিটাল মানির ক্ষেত্রেও সবচাইতে বড় সমস্যা ছিল এর ট্রানজেকশন এর ট্র্যাক রেকর্ড রাখা। মানে ডিজিটাল পেমেন্ট এর ক্ষেত্রে এমন যেন না হয় যে আপনার টাকা কেটে গেল কিন্তু আপনি যার কাছে পাঠাচ্ছিলেন তার কাছে পৌঁছাল না। কিংবা আপনি যার কাছে টাকা পাঠাচ্ছিলেন তার কাছে পৌঁছে গেল কিন্তু আপনার ব্যালেন্স থেকে টাকা কমলো না। এই সমস্ত কিছু ট্র্যাক রেকর্ড রাখার জন্য একটা সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক সিস্টেম তৈরি হয়।

তবে এ ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে যে আপনি যে টাকাটা ব্যাংকে রাখেন সিটি ব্যাংক রেখে দেয় না। সেটি অন্য জায়গায় ইনভেস্ট করে। বা লোন দিয়ে থাকে। তারপর সেই ইনভেস্টমেন্ট এর যদি ক্ষতি হয়ে যায় বা লোন রিকভার করতে না পারে তবে আপনার টাকা রিক্স এ চলে আসতে পারে।

আপনার একাউন্ট এ যে টাকাটা শো করে সেটি শুধুমাত্র একটি নাম্বার। যাকে ব্যাংক বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা রুটেড করে ম্যানেজ করে থাকে। এই কারণেই ব্যাংকের ক্ষেত্রে কখনো আপনি আপনার নিজের টাকা-পয়সার কন্ট্রোল দিয়ে দিচ্ছেন।

বর্তমানে ব্যাংক যেভাবে ট্রানজেকশন মেনটেন করে চলেছে তার একটি অল্টারনেটিভ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আপনাকে এটিও জানতে হবে যে বিটকয়েন একমাত্র ক্রিপ্টোকারেন্সি নয়। এরকম বহু সংখ্যক অনলাইন কারেন্সি রয়েছে। বা বাংলাদেশ সরকার চাইলে নিজস্ব অনলাইন কারেন্সি তৈরি করে নিতে পারে।

ধরুন আপনি যখন পেটিএম এর সাহায্যে একটি পেমেন্ট সম্পন্ন করেন তাহলে আপনাকে রিওয়ার্ড পয়েন্ট দেওয়া হয়। এবার ভাবুন এই পয়েন্ট যদি আপনি অন্য কিছু কেনার ক্ষেত্রে অন্য জায়গায় ব্যবহার করতে পারতেন। এবং সবাই সেটি একসেপ্ট করতো তাহলে তার ভ্যালু বেড়ে যেত। যেরকম টি হয়েছে ইউ এস ডলার এর বর্তমান অবস্থা।

আর বিটকয়েন এর ক্ষেত্রে এই জিনিসটি হয়ে থাকে। বিটকয়েন একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি। মানুষ যত এটিকে একসেপ্ট করতে পারবে ফিউচারে এটির মূল্য ততই বেড়ে যাবে। বিটকয়েন একটি ডিজিটাল কারেন্সি। বাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব নেই। এটি শুধু অনলাইন এই ট্রানস্ফার যোগ্য।

যখন আপনি কোন বিট কয়েন কিনেন তখন আপনি শুধুমাত্র একটি স্পেসিফিক বিটকয়েন অ্যাড্রেস পার্সেস করেন। যার সাহায্যে আপনি অন্য কোনো বিটকয়েন এড্রেস পারচেস করতে পারবেন। বিটকয়েন এর এই ট্রানজেকশন পদ্ধতিকে বলা হয় ব্লকচেইন প্রযুক্তি

এটি একটি অটোমেটিক স্ট্রাকচার যাকে ব্লক চেইন বলা হয়। এটি একটি অটোমেটিক অ্যালগরিদম এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। সারা পৃথিবীতে এই অ্যালগরিদম রান করানোর জন্য হাজারো কম্পিউটার এর প্রয়োজন পড়ে। আর এই হাজারো কম্পিউটার কে মেইনটেইন করার জন্য একটি third-party প্রয়োজন। আর থার্ড পার্টির যখনই এনভেলোপ হয়ে যাবে তখনই ঘুরে ফিরে সেই একই বিষয় হয়ে যাবে। সেই ব্যাংকের মতই সব ভরসা থার্ড পার্টির উপর করতে হবে।

আর এই জিনিসটিকে এভোয়েড করার জন্য আসে বিটকয়েন মাইনিং সিস্টেম। এক্ষেত্রে সাধারন মানুষ নিজেদের কম্পিউটারের সাহায্যে বিটকয়েন অ্যালগরিদম রান করা। যখন তার ট্রানজেকশন কমপ্লিট হয় তখন রিওয়ার্ড হিসেবে একটি অল্প পরিমাণে বিটকয়েন পায়।

এবার যদি সবায় বিটকয়েন মাইনিং করতে থাকে তাহলে বিটকয়েন এর পরিমাণ বেড়ে যাবে। আমরা জানি যে মুদ্রা যখনই বেড়ে যাবে তখন তার ভ্যালু টা কমতে থাকবে।

আর ঠিক এই জিনিসটা কে এভোয়েড করার জন্য প্রথম থেকেই ঠিক করা রয়েছে যে 21 মিলিয়ন এর বেশি বিটকয়েন জেনারেট করা যাবে না। এজন্য যে বিটকয়েন মাইনিং করছে সে কতটা পরিমাণ বিটকয়েন পাবে সেটি নির্ভর করে যে 21 মিলিয়ন এর মধ্যে কত বিটকয়েন জেনারেট করা বাকি রয়েছে এবং কত লোকে একসাথে মাইনিং করছে।

2009 সালে 100 থেকে 200 বিটকয়েন আপনি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জেনারেট করে নিতে পারতেন। তবে বর্তমান সময়ে যদি আপনি এক বিটকয়েন জেনারেট করতে চান তাহলে আপনার একশ থেকে দেড়শ বছর লেগে যেতে পারে।

বিটকয়েন এর সুবিধা সমূহ যেরকম রয়েছে তেমনি অসুবিধা রয়েছে বেশকিছু। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে বিটকয়েন এখন পর্যন্ত সব দেশেই এক্সেপ্ট করা হয়নি। বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই এটি অবৈধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

বিটকয়েন এর উপর কোন কর্তৃপক্ষ বা সরকার এর নিয়ন্ত্রণ থাকেনা। একবার কেউ বিটকয়েন ট্রান্সফার করলে সেটি ফেরত আনা সম্ভব নয়, যদি কেউ নিজে থেকে না দেয়। তাই যদি কোন অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা হয় তাহলে এর দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে।

এছাড়া বিটকয়েন যেহেতু অনলাইন কারেন্সি তাই এর মান প্রতি সেকেন্ডে কম বা বেশি হতে পারে। এর ভ্যালু প্রত্যেক মুহূর্তে আপডাউন করে থাকে। ধরুন আপনি বিটকয়েন ব্যবহার করে কোন পণ্য ক্রয় করেছেন। পণ্যটি হাতে পাওয়ার পর আপনার পছন্দ হয়নি এবং সেটি ফেরত দিবেন। ফেরত দিতে দিতে আপনার প্রদানকৃত বিটকয়েন এর মূল্য কমে যেতে পারে আবার বেশিও হতে পারে।

বিটকয়েন একাউন্ট

বিটকয়েন একাউন্ট খোলার নিয়ম। বিটকয়েন মূলত হচ্ছে একটি ডিজিটাল কারেন্সি। এই কারেন্সি লেনদেন করার জন্য আপনি সফটওয়্যার এর মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন। এরকম একটি সফটওয়্যার হচ্ছে Coinbase অ্যাপস। এই অ্যাপসটি মাধ্যমে আপনি বিটকয়েন কারেন্সি ট্রানজেকশন করতে পারবেন। এছাড়া আরও কয়েকটি ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়েছে সেগুলো ট্রানজেকশন করতে পারবেন।

Coinbase অ্যাপটি ইনস্টল করুন এবং জিমেইল এর মাধ্যমে সেখানে একটি একাউন্ট খুলে ফেলুন। অ্যাকাউন্ট এসব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পর সেখানে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি এর অপশন দেখতে পাবেন।

এবার আপনার পছন্দমত ক্রিপ্টোকারেন্সি আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি যদি বিটকয়েন ট্রানস্ফার করতে চান তাহলে বিটকয়েন এ ক্লিক করে সেন্ড অথবা রিসিভ অপশন সিলেক্ট করুন। রিসিভ করার ক্ষেত্রে আপনার জিমেইল নাম্বারটি দিলেও বিটকয়েন পাঠিয়ে দেয়া যাবে। আর রিসিভ এ ক্লিক করার পর আপনি একটি রিসিভ এড্রেস পাবেন সেটি কপি করে যার কাছ থেকে বিটকয়েন নিচ্ছেন তাকে পাঠালে ওই এড্রেসে তিনি পাঠিয়ে দিতে পারবেন।

এখানে উল্লেখ্য যে বিটকয়েন ট্রানজেকশন বাংলাদেশ অবৈধ এবং আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

বিটকয়েন প্রাইস ইন বাংলাদেশ

তিমধ্যে আমরা সকলেই জেনেছি যে বিটকয়েন এর প্রাইস প্রতিনিয়ত ওঠানামা করছে। এর ধর্মই হচ্ছে প্রত্যেক সেকেন্ডে মান চেঞ্জ করা। তাই এর সঠিক মূল্য নির্দিষ্ট টাইম এর জন্যই বলা সম্ভব। পরবর্তীতে এর মান চেঞ্জ হয়ে যায়। তবে বর্তমানে একটি বিটকয়েন এর মূল্য ২০,৮৭৫ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় হিসেব করলে হবে ১৯ লক্ষ ৪০ হাজার ২৫৮ টাকা। অতএব আপনি যখন এই পোস্টটি দেখবেন তখন হয়তো বিট কয়েনের মূল্য চেঞ্জ হয়ে যাবে। তাৎক্ষণিক মূল্য দেখতে আপনাকে গুগল সার্চ করতে হবে।

শেষ কথাঃ 

বিটকয়েন বাংলাদেশে অবৈধ। তাই সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিটকয়েন লেনদেন কে আমরা সকলেই নিরুৎসাহিত করি। সময় নিয়ে পোস্ট টি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এছাড়া কোন তথ্য জানার থাকলে আমাদেরকে অবশ্য ই কমেন্ট করে জানাবেন।

এছাড়া দেখুনঃ ব্লকচেইন প্রযুক্তি কি? বিটকয়েন ব্লকচেইন প্রযুক্তি এবং অন্যান্য মুদ্রা

Leave a Reply

Your email address will not be published.