বিল গেটস কত টাকার মালিক 2023

বিল গেটস কত টাকার মালিক? আজকের বর্তমান বিশ্বে যাকে ধরা হয় সবচেয়ে বেশি দানশীল ব্যক্তি তিনি হচ্ছেন বিল গেটস। একবার তিনি বলেন যদি আপনি গরিব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তাহলে সেটি আপনার ভুল নয়, কিন্তু আপনি যদি গরীব থেকেই মরে যান তাহলে সেটি আপনার ভুল। তিনি যদি আজও নিজে থেকে কোন দেশ তৈরি করেন তাহলে সেই দেশ হবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ধনী দেশ। বিল গেটস প্রতিদিন ১২০ কোটি টাকারও বেশি আয় করে থাকেন।

আর যদি কোন সময় তার হাত থেকে টাকার একটি নোট পড়ে যায় তাহলে সে এখান থেকে টাকাটি তুলতে তুলতে এর চেয়ে আরো বেশি আয় হয়ে থাকে তার। কথিত আছে তার হাত থেকে টাকা পড়ে গেলে তিনি আর সেটি তোলেন না। বিল গেটস এর পুরো নাম উইলিয়াম হিন্দ্রি গেটস।-Bill Gates Net Worth

২৮ অক্টোবর ১৯৫৫ সালে আমেরিকার ওয়াশিংটনে বিল গেটস জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন বিল গেটস সিনিয়র। এবং পেশায় একজন উকিল ছিলেন তিনি। তার বাবা মা চেয়েছিলেন তাদের ছেলেও একজন উকিল হবেন। কিন্তু বিল গেটস এর আগ্রহ ছিল ভিন্ন কিছুতে। ছোটবেলায় কম্পিউটার হাতে পাওয়ায় এতে অনেক আবেগী হয়ে ওঠেন। এবং তাতেই অনেক সময় দিতে থাকেন।

বিল গেটস কত টাকার মালিক

তার প্রাথমিক শিক্ষা লেকসাইট বিদ্যালয় হয়। এবং সে সময়ে প্রাথমিক অবস্থায় শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার পারদর্শী করার জন্য কম্পিউটার দেওয়া হয়েছিল। বিল গেটস এর কম্পিউটার শেখার পরিবর্তে কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে তা জানতেই বেশি ভালো লাগতো।

মাত্র ১৩ বছর বয়সেই কম্পিউটার বিষয়ে অনেক কিছু জানা হয়ে যায় তার। এবং বেসিক কম্পিউটার ভাষা জেনে tiktok টয় নামের একটি গেম বানিয়ে ফেলেন। কিন্তু সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় ছিল সেই গেমটি মানুষ কম্পিউটারের সাথেই খেলতে পারবেন।

পেশা ব্যাবসসায়ী এবং উদ্যোক্তা
মোট সম্পদ১০৫ বিলিয়ন ডলার বা
১১লক্ষ কোটি টাকা
মাসিক বেতন ৩৩০ মিলিয়ন ডলার বা
৩,৫০০ কোটি টাকা
বাৎসরিক আয় ৪ বিলিয়ন ডলার বা
৪২হাজার কোটি টাকা
বয়স ৬৭ বছর
জন্মস্থান ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র

স্কুলে থাকা অবস্থায় বিল গেটস এর সাথে সাক্ষাৎ পল এলেনের সাথে হয়। এ সময় তিনি তার সিনিয়র ছিলেন। তাদের উভয়ের কম্পিউটার বিষয়ে ভালো ধারণা থাকার কারণে ভালো বন্ধু হয়ে যান। কিন্তু বিল গেটস এবং তার বন্ধুকে স্কুল অথরিটি কম্পিউটার ল্যাব এ যাওয়া নিষিদ্ধ করে দেয়। এর কারণ ছিল বিল এবং তার বন্ধু এলেন কম্পিউটার ক্লাসের নির্দিষ্ট সময় ছাড়াও সারাটা সময় কম্পিউটার ল্যাবেই কাটিয়ে দিতেন এবং কম্পিউটার সফটওয়্যার গুলোকে ঘাটাঘাটি করতেন।

তবে এরপরে তাদের অনুমতি দেয়া হয় এক শর্তে যে তাদের প্রোগ্রামের ভুল বের করতে হবে। এ সময় বিল গেটস আরো একটি সফটওয়্যার তৈরি করে ফেলেন। যা স্কুলের টাইম টেবিল সিডিউল এর জন্য কাজ করতো। শুধুমাত্র ১৫ বছর বয়সেই ১৯৭০ সালে বিল গেটস এবং তার বন্ধু এলেন একটি প্রোগ্রাম তৈরি করেন যা শহরের ট্রাফিক সিগন্যালের উপর নজর রাখতে পারতো। তাদের এই প্রোগ্রাম এর জন্য ২০ হাজার ডলার পারিশ্রমিক দেয়া হয়েছিল। যা তার প্রথম উপার্জন ছিল।

১৯৭৩ সালে লেক সাইড স্কুল থেকে পাশ করার পর তিনি হারভার্ড ইউনিভার্সিটি তে এডমিশন নেন। কিন্তু বিল গেটস ১৯৭৫ সালেই গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন না করেই কলেজ ছেড়ে দেন। এবং নিজের কোম্পানির উপর মনোনিবেশ করেন। অবশেষে ২৬ নভেম্বর ১৯৭৬ সালে তিনি মাইক্রোসফট কে প্রথম কোম্পানি হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এবং মাইক্রোসফট এখন দেখতে দেখতে বিশ্বের অন্যতম বড় একটি কোম্পানি। বিল গেটস বিশ্বের প্রথম ধনী হয়তো নয় এখন। তবে যদি তিনি তার সমস্ত সম্পদ দান করে না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দিতেন তাহলে আজও তিনি বিশ্বের প্রথম ধনী থাকতেন।

তিনি বিশ্বব্যাপী গরীব মানুষকে কোটি কোটি টাকা দান করেন। তিনি বলেন ভুল তো সবাই করে কিন্তু যে তার ভুলগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সেই জীবনে সফল হয়। আজও বিল গেটস রাতের খাবারের সময় নিজের খাবার খাওয়ার পর নিজের প্লেট নিজেই পরিষ্কার করেন। তিনি তার সম্পত্তির ভাগ তার সন্তানকে দিবেন না। তিনি মনে করেন তিনি তার সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দিবেন এবং পরবর্তীতে সে যেন তার নিজের উপার্জনের রাস্তা নিজেই বের করে নিতে পারে।

আরো দেখুন,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *